10.3 C
New York
Thursday, April 18, 2024
spot_img

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রল ও অন্যান্য

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা দেখি প্রতিনিয়তই বিভিন্ন মানুষকে নিয়ে সমালোচনা হয়, ট্রল করা হয়। বিশেষ করে সেলিব্রেটিদের কোনো কথা বা আচরণ পছন্দ না হলেই ট্রল করা হয়। এই তালিকায় যাদের নাম সচরাচর দেখা যায় তারা হলেন এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান, অভিনেতা রিয়াজ, নায়ক অনন্ত জলিল,পরিমনি,দীঘি,সাকিব আল হাসান,হিরো আলম,কেকা ফেরদৌসী,সুবর্ণ আইজ্যাক বারী,জায়েদ খান এবং সাঈদ খোকন অন্যতম। যারা ট্রল করে তারা আবার কয়েক ভাগে বিভক্ত। একদল স্রেফ হাসাহাসির উদ্দেশ্যে ট্রল করে, আরেক দল আছে যারা ট্রল করার বিনিময়ে ফায়দা হাসিল করে। কোনো একজনের বিষয়ে ট্রল করার ক্ষেত্রে তার বলা কথা বা আচরনের ভিডিও দিয়ে নিজেদের মত করে ট্রল করে তা তাদের পেজ বা টাইমলাইনে প্রকাশ করে। এর মাধ্যমে মূলত ট্রল করার চেয়ে নিজেদের ফায়দা লুটে নেওয়াই মূখ্য উদ্দেশ্য থাকে। এই শ্রেণীর মধ্যে আবার ভাগ আছে। ফেসবুক বা ইউটিউব থেকে টাকা আয় করা যায়। ফেসবুকে আপনার কোনো পেজ বা প্রোফাইল থাকলে সেটার মাধ্যমে অল্প কিছু শর্ত পূরণ করতে পারলেই আপনি টাকা আয় করতে পারবেন। শর্তগুলো হলো আপনার পেজে ৫ হাজার ফলোয়ার থাকতে হবে, কমপক্ষে ৫টি ভিডিও থাকতে হবে এবং ভিডিওগুলোর মোট ওয়াচটাইম ৬০ হাজার মিনিট হতে হবে। এখন দেখুন আমি বা আপনি যাদেরকে মানুষ চেনে না তারা কোনো একটা পেজ খুললাম আর রাতারাতি সেখানে ৫ হাজার ফলোয়ার হয়ে যাবে এটি কিন্তু কল্পনাই করা যায় না। একই ভাবে  ভিডিও করে পেজে দিলেও তা ৬০ হাজার মিনিট হতে যথেষ্ট সময় লাগে। একেবারেই অসম্ভব এমনটি বলছি না। সাধারণ একজন মানুষ দিনের পর দিন, মাসের পর মাস লেগে থাকলে একটু একটু করে ফলোয়ার বাড়বে,ওয়াচটাইমও পূর্ণ হবে। হতে পারে তার জন্য ছয় মাস, এক বছর বা তারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফলোয়ার এবং ওয়াচটাইম পূর্ণ করতে অনেকেই সেলিব্রেটি টাইপ মানুষকে নিয়ে ট্রল ভিডিও শেয়ার করার মাধ্যমে সেই লক্ষ্য পূরণ করে। আবার আরেক দল আছে যাদের পেজ মনিটাইজ হয়েছে কিন্তু নিজেরা তেমন ভিডিও পাচ্ছেনা বলে আয় করতে পারছে না। তারাও ট্রল ভিডিও বানিয়ে পেজের রিচ বাড়ানোর পাশাপাশি আয় করে থাকে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা ট্রল করে,অন্যকে নিয়ে হাসাহাসি করে,অন্যের সমালোচনা করে তারা কিন্তু সেই মানুষটিকে পছন্দও করে। একান্তই পছন্দ  না করলেও নিজের সুবিধা তথা ফায়দার কথা বিবেচনা করে সেই মানুষকে ফলো করে। কারণ ফলো না করলে নতুন ভিডিও পাবে না, আর নতুন ভিডিও না পেলে তার উদ্দেশ্য সফল হবে না। তা না হলে যারা সমালোচনা করছে তারা কিন্তু আনফলো করে দিয়ে চলে যেতো। আর খোঁজ নিতো না। আমি নিজে যাদের পছন্দ করি না বা যাদেরকে আমার প্রয়োজন নেই বলে মনে করি তাদের পেজে বা প্রোফাইলে বছরে একবারও যাই না। কালেভদ্রে চোখের সামনে চলে আসলেও খুব একটা পাত্তা দিই না। সেটা মেসি হোক বা  সাকিব আল হাসান হোক কিংবা আমার কোনো ক্লাসমেট হোক। আবার অনেকের প্রোফাইলে বা পেজে আমি নিজে ঘুরে ঘুরে দেখে আসি নতুন কোনো আপডেট আছে কি না। নতুন কোনো লেখা, আঁকা, ভিডিও আছে কি না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা ট্রল করছে তারা কিন্তু মনে  করে তারা যাদেরকে ট্রল করছে তাদের চেয়েও সামাজিক ভাবে নিজেদের অবস্থান উচুতে! আসলে কিন্তু একটু চিন্তা করলেই আমরা দেখতে পাই যে তারা মোটেও তাদের চেয়ে উচু স্তরের কেউ না। উচুতে বসে নিচুতলার কাউকে নিয়ে মানুষ কথা বলার মত রুচিই রাখে না। অনেককে দেখি অনেকের উচ্চারণ নিয়ে ট্রল করে, আঞ্চলিক টান নিয়ে ট্রল করে, মুখ ফসকে বেরিয়ে যাওয়া কথা নিয়ে ট্রল করে। মেহেদী হাসান মিরাজ যেমন সেদিন বললেন “ আমারতো কিছু করার উপায় নেই কারণ কিছু করলেই একদল মানুষ বসে থাকে ভিডিও বানানোর জন্য”। তিনি এই কথাটা বলেছিলেন এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষুধা লাগার কারণে তিনি টেবিলে রাখা খাবার খেয়েছিলেন সেটা নিয়ে লোকে ট্রল করেছি তার প্রেক্ষিতে।

আমি দেখেছি ট্রল করার কারণে যাকে ট্রল করা হয়, যার সমালোচনা করা হয় তার কোনো ক্ষতিতো হয়ই না উল্টো সে নানা ভাবে লাভবান হয়। সেটা নেতিবাচক ভাবেই হোক বা ইতিবাচক ভাবে হোক। যেমন ধরুন সেই যে এক লোক চুরি করে ধরা খাবার পর কাচুমাচু হয়ে বলেছিলো “ আমার ভুল হয়ে গেছে আমাকে ক্ষমা করে দেন”। সেই লোক নিয়ে আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় এতো ট্রল করেছি, এতো আলোচনা সমালোচনা করেছি যে সে রীতিমত সেলিব্রেটি রুপ ধারণ করেছে। সংবাদ মাধ্যমের খবর থেকে জেনেছি একাধিক অনুষ্ঠানে তাকে প্রধান অতিথি হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার সাথে ছবি তোলার জন্য লোকজন লাইন ধরেছে! হিরো আলম থেকে শুরু করে কম বেশি আজ আমরা যাদেরকে আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে দেখি তারা সবাই মূলত এই পর্যায়ে এসেছে কিছু মানুষের ট্রল করার কারণে। এতে তাদের বরং পরিচিতি বেড়েছে। সেটা নেগেটিভ ভাবেই হোক আর পজেটিভ ভাবেই হোক তা ভিন্ন কথা। কিন্তু এটাতো ঠিক যে বাংলাদেশে কোনো ইস্যু এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় না। ফলে আপনি কাউকে নিয়ে ট্রল করলেন সেটাও স্থায়ী হবে এক সপ্তাহ। অথচ ওই এক সপ্তাহ আলোচনায় থাকার কারণে যার কথা কেউ কখনো জানতেই পারতো না তাকে এখন দেশবাসী চেনে। পাঙাশ মাছকে জাতীয় মাছ বলা রিফাত হোক আর কাঁচা বাদাম ওয়ালা ভূবন বাদ্যকর হোক কিংবা ফেসবুক, ইউটিউবে হাফ প্যান্ট পরে মদ খেতে খেতে প্রলাব বকা সেফুদা হোক। এদেরকে ট্রল করার মাধ্যমেই দেশ ও বিদেশের মানুষের কাছে পরিচিত করে তোলা হয়েছে। যদি ইগনোর করা হতো তাহলে তারা যেখানে ছিল সেখানেই থাকতো।

আজ আমরা ট্রল করে আশরাফুল আলম সাঈদকে বিশ্বের অনেক দেশের মানুষের কাছে, সরকারের কাছে পরিচিত করে তুলেছি। আশরাফুল আলম সাঈদ নাম শুনে যারা বুঝতে পারছেন না এই লোক আবার কে? এই লোক আবার কী করেছে? তাদের জন্য বলি এই লোকটার নামই হিরো আলম। এটা তার আসল নাম। যাকে নিয়ে আমেরিকান অ্যাম্বাসি থেকে শুরু করে বড় বড় দেশের সরকার সংশ্লিষ্টরাও চিন্তা করে, গুরুত্ব দেয়। যে ডিশ ব্যবসায়ী থেকে সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হয়ে যায়। যাকে নিয়ে কথা বলতে বাধ্য হয় মামুনুর রশীদের মত মানুষেরা। পত্রিকা,টেলিভিশনের উচ্চ শিক্ষিত সাংবাদিকেরা যাদের পিছু নেয় দুটো কথা শোনার জন্য! অথচ তাকে নিয়ে ট্রল না করলে সে যে ডিশ ব্যবসায়ী ছিল তেমনই থেকে যেতো। ঠিক যেমন তাকে নিয়ে আমরা যারা ট্রল করেছি তারা সেই আগের স্টেশনেই পড়ে আছি কিন্তু সে ধাবমান ট্রেনের মত ছুটে চলে গেছে এক স্টেশন পেরিয়ে অন্য স্টেশনে। বাংলাদেশে অনেক নায়ক, নায়িকা আছে। যাদের কেউ কেউ অত্যন্ত গুণী,সম্মানি। কিন্তু তাদেরকে যত মানুষ চেনে তা বলতে গেলে হাতে গোনা যাবে। অন্যদিকে অভিনয় দক্ষতা থেকে শুরু করে অন্যান্য সব কিছু বিবেচনা করলে যারা বলার মত কিছু করেনি সেই জায়েদ খানকে চেনে না এমন মানুষ মেলা ভার। এর কারণ? আমরা তাকে নিয়ে ট্রল করি। আমরা তাকে নিয়ে হাসি। সে সেই হাসিকে, ট্রল করাকে পাত্তাই দেয় না। তার ভিউ বাড়ে,পরিচিতি বাড়ে,মিডিয়ায় উপস্থিতি বাড়ে। দিন শেষে কিন্তু সেই জয়ী হয়। 

সাকিব আল হাসানকে নিয়ে প্রচুর ট্রল হয়ে থাকে। বিশেষ করে তাকে লোকে শো রুম আল হাসান বলে। এই যে তাকে নিয়ে যারা ট্রল করে তারা কখনো ভেবে দেখেছে সাকিব দিন শেষে সাকিবই থাকে। কারো ট্রলে তার ক্ষতি হয় না বরং নানা ভাবে লাভ হয়। সে তার একক নৈপুণ্য ঠিকই ধরে রেখেছে। রেকর্ড বইয়ে তার নামের পাশে শত শত রেকর্ড জমা হচ্ছে। আর আমরা যারা তাকে নিয়ে হাশিতামাশা করছি তাদের নামের পাশে কোনো কিছু যেমন যোগ হচ্ছে না তেমনি ব্যাংক ব্যালেন্স থেকে সামান্য ফেসবুক ফলোয়ার সংখ্যা্ও বাড়ছে না। আমার ধারণা অনেক কিছুই সাকিব আল হাসান জেনে বুঝেই করে যা নিয়ে সাধারণ মানুষ হাসাহাসি করে। তার উদ্দেশ্যই থাকে ওগুলো নিয়ে আলোচনা হোক। বাংলাদেশে তার আগে অনেক ক্রিকেটার এসেছেন এবং আগামীতেও আসবেন কিন্তু তার মত বোধহয় কেউ হতে পারবেন না। তিনি শুধু ক্রিকেটীয় পরিমণ্ডলেই নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে বহুদিকে সম্প্রসারিত করেছে। ফলে শুধু ক্রিকেটীয় অলরাউন্ড না হয়ে বরং সে হয়ে উঠেছে বহুবিধ অলরাউন্ডার। এই তালিকায় সে পৃথিবীর বিভিন্ন খেলার সাথে সম্পৃক্ত অনেককেই পেছনে ফেলেছে। আমরা যে হাসাহাসি করি, আমার ধারণা সেগুলো সে কখনো দেখেও না। ওসব দেখার সময় কোথায় তার।

কেকা ফেরদৌসের কথাটা একটু তুলে ধরা দরকার। তিনি নানা সময় নানা রকম রেসিপি নিয়ে হাজির হতেন। টিভিতেও প্রোগ্রাম করতেন। মানুষ তা নিয়ে হাসাহাসি করতো। যদি ট্রল করা না হতো তাহলে ওই টিভি অনুষ্ঠান যে কয়জন মানুষ দেখতো তারা ছাড়া বাকি কেউ তার নামও জানতো না। এমনকি যারা ওই অনুষ্ঠান দেখতো তাদের স্মৃতি থেকেও একসময় তিনি হারিয়ে যেতেন। কিন্তু ট্রল করে তার নাম চারদিকে ছড়িয়ে দেওয়ার কৃতীত্ব ট্রলকারীদেরই। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা চাইলেই যে কাউকে আলোচিত সমালোচিত করতে পারে। আমার আপনার চারপাশে অনেকেই রান্না করে, ভিডিও করে সেগুলো ছাড়লে বুঝতেন কেমন হয়। এই লেখাটি যখন লিখছি তখন আমি সমালোচিত একজনের টাইমলাইনে অত্যন্ত ক্লিন ইমেজের অধিকারী  একজনের একটি ভিডিও শেয়ার হতে দেখেছি। সেই ভিডিওতে অত্যন্ত চমৎকার কিছু বিষয়ে বলা হয়েছে। অথচ সেই পোস্টের নিচে হাসির বন্যা বয়ে যাচ্ছে। নেগেটিভ কমেন্টের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। এটা একটা মানসিক রোগ। আমি অন্তত তাই মনে করি। তা না হলে একজন ক্লিন ইমেজের অধিকারী যখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সুন্দর কথা বলে সেই কথা শুনে মানুষ এভাবে হাসতে পারে না, নেগেটিভ মন্তব্য করতে পারে না। আমি দেখেছি পবিত্র কুরআন বা হাদীসের বাণী শেয়ার করলেও একদল ট্রল করে, হাসে। এরা প্রত্যেকেই মানসিক বিকারগ্রস্থ।

আপনাদের মনে আছে কি না জানি না। বাংলাদেশী তরুণ গায়ক নোবেল প্রথম দিকে জনপ্রিয় ছিল। পরে সে নিজেই ট্রল পদ্ধতি অবলম্বন করা শুরু করলো। সে ঘোষণা করলো জেমস কোনো গায়কই না। সে জেমসের সাথে গান গাওয়ার চ্যালেঞ্জ করতে চায়। ফলশ্রুতিতে কী হলো? ফলাফল শুন্য। আগে যাও তাকে গোনা হতো এখন আর তা হয় না। অন্যকে ছোট করে কি নিজে বড় হওয়া যায়? মোটেও যায় না। যাকে নিয়ে ট্রল করা হয় বরাবরই সে এসবের ধরাছোয়ার বাইরে থাকে। এগুলোকে স্বাভাবিক ভাবে নিয়ে সে তার মত এগিয়ে যেতে থাকে। আর ট্রলকারীরা ঠিকই যেখানে ছিল সেখানেই থেকে যায়। 

এতো গেলো বড় মানুষকে নিয়ে ট্রল করার কথা। আমাদের দেশের মানুষ যখন যাকে পায় তাকে নিয়েই ট্রল করে। চাই সে ৮০ বছরের বৃদ্ধ হোক বা দশ বছরের শিশু হোক। যেমন সিমরিন লুবাবা। বয়স এখন ১৩ বছর। নানা সময়ে সে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। এবং অধিকাংশ সময় উপরে বর্ণিত শ্রেণীর মানুষ তাকে নিয়ে ট্রল করে। ট্রল করে মূলত নিজেদের ফায়দা লুটার জন্য।পরগাছা যেমন অন্য গাছের কাঁধে চড়ে বড় হয় তেমনি তারাও মূলত সিমরিনকে পুঁজি করে নিজেদের এগিয়ে নিতে চায়। কিন্তু নিজেদের ঘটে কিছু না থাকলে অন্যের কাঁধে চড়ে খুব একটা দুরো যাওয়া যায় না এটা হয়তো অনেকেই জানে না। ধরুন আমার একটা পোস্ট সেলিব্রেটি টাইপ কেউ শেয়ার দিলে সেখানে দুইশো চারশো লাইক,শেয়ার,কমেন্ট হয়তো পড়বে কিন্তু পরের পোস্ট থেকেই আবার সব তলানিতে নেমে আসবে। কারণ সেই পোস্ট আগের মত কেউ শেয়ার দেবে না। ফলশ্রুতিতে যা ছিল তাই হবে। আপনি  ফেসবুকে ঘুরতে ঘুরতে দেখবেন অনেকের অনেক ভিডিও বা ছবিতে লাখ লাখ লাইক পড়ছে, শেয়ার  হচ্ছে। তার টাইমলাইনে গিয়ে দেখবেন ফ্যান ফলোয়ার খুবই কম। একই সাথে তাদের অন্য পোস্টগুলো দেখবেন ১০০ বা তারও কম লাইক পড়েছে। কিন্তু ওই একটা পোস্ট কয়েক মিলিয়ন ভিউ হয়েছে বা লাইক পড়েছে। যদি নিজের অবস্থানটা ঠিক থাকতো তবে সব পোস্ট একই ধারায় বা কাছাকাছি যেত। যেমন ধরুন আমার সব পোস্টই ৩০ বা ৪০ জন দেখে, লাইক দেয়। এটা একটা ধারাবাহিকতা।

ফিরে আসি সিমরিনের কথায়। এই লেখাটা অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে। যদিও বড় লেখা পড়ার ধৈর্য্য খুব কম মানুষেরই থাকে। আমি মূলত আমার প্রতিদিনের দিনলিপি হিসেবে এই কথাগুলো লিখছি। কেউ পড়ে দেখবে,কারো পছন্দ হবে সেটা মূল উদ্দেশ্য নয়। কারো এটেনশন পাওয়ার জন্যও এটা লিখছি না। প্রতিনিয়ত আমি নানা বিষয় নিয়ে ভাবি এটা তারই অংশ। কিছুদিন আগে মুশফিকুর রহমান গুলজার পরিচালিত সরকারি অনুদানে নির্মিত ” দুঃসাহসী খোকা” নামে একটি চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। এই চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার শোতে অনেকেই আমন্ত্রিত ছিল। সেখানে সিমরিন লুবাবা নামের এই আলোচিত ছোট্ট মেয়েটিও ছিলো। যদিও সে ওই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেনি কিন্তু আমন্ত্রিত হিসেবে সে প্রিমিয়ার শো দেখতে গিয়েছিল। আমি দেখলাম পত্র পত্রিকা বা টেলিভিশন চ্যানেল গুলোতে সিমরিন লুবাবার অনেক স্বাক্ষাৎকার প্রচার ও প্রকাশ হয়েছে। অনেকেই তাদের টাইমলাইনে লিখেছে এই চলচ্চিত্রে যে সব শিশু শিল্পী অভিনয় করেছে পত্র পত্রিকা বা টেলিভিশনে তাদের নিয়ে তেমন কিছু চোখে পড়েনি বা পড়লেও খুবই সীমিত আকারে। পক্ষান্তরে সিমরিন লুবাবা এই সিনেমায় অভিনয় না করেও কেন এতো মিডিয়া কাভারেজ পাচ্ছে। আমি ভেবে দেখলাম এটার জন্য আসলে সিমরিনের জনপ্রিয়তা,কথা বলার দক্ষতা,মিষ্টি চেহারা,গ্রহণযোগ্যতা বড় কারণ। মিডিয়াতো চায় ভিউ। যাকে নিয়ে প্রতিবেদন করলে ভিউ বেশি হবে, আলোচনা হবে স্বাভাবিক ভাবেই তাকে নিয়ে তারা প্রতিবেদন করবে।

সব ক্ষেত্রেই কিন্তু এগুলো বিবেচনা করা হয়। পারফর্মেন্স যার ভালো সেই সুযোগ বেশি পায়। একই ভাবে বাংলাদেশ সরকারের  তত্ত্বাবধানে নির্মিত বঙ্গবন্ধুর জীবনী ভিত্তিক চলচ্চিত্র “ মুজিব: একটি জাতির রুপকার” চলচ্চিত্রে অভিনয় না করেও এর প্রিমিয়ার শোতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি মিডিয়া কাভারেজ পেয়েছে সে। গত কয়েক বছরের তথ্য ঘাটলে দেখতে পাই সিমরিন কোথাও যাওয়া মানেই অবধারিত ভাবেই সে সবার দৃষ্টিতে পড়ে। তার প্রতি সবার অন্যরকম একটা ভালো লাগা কাজ করে। সে সব সময়ই লাইম লাইটে থাকে। এমনকি পরীমনির ছেলের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়েও সে যথেষ্ট সমাদর পেয়েছে সবার কাছ থেকে। তো এই যে বঙ্গবন্ধুর উপর নির্মিত চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার শোতে গিয়ে সিমরিন যেভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এটি আসলে ওর নিজেরই একটি প্রভাব বলয় তৈরিতে সহযোগিতা করছে। সে হাসিমুখে মানুষের আলোচনা সমালোচনা গ্রহণ করছে। সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দ্বিধাহীনচিত্তে দিয়ে যাচ্ছে। তের বছরের একটি ছোট্ট মেয়ে যে কেবল সিক্সথ গ্রেডে পড়ছে সে যে  এতো এতো ক্যামেরার সামনে নির্ভয়ে কথা বলতে পারে এটাই বিস্ময়ের ব্যাপার হওয়ার কথা। এই মুভিতে বাংলাদেশের কয়েকটি বাচ্চা সুযোগ পেয়েছিল। তাদের স্বাক্ষাৎকারও দেখেছি। তারা  এই সিনেমায় কী ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছে তা নিয়েও বলেছে। তারা কিন্তু মিডিয়াতে তেমন আলোড়ন তুলতে পারেনি বা মিডিয়া তাদেরকে নিয়ে সেভাবে প্রতিবেদন বা সেভাবে গুরুত্ব দেয়নি। এটা কেন দেয়নি তা আগেই বলেছি। মিডিয়া আসলে দেখে কাকে প্রাধান্য দিলে তাদের লাভ। এখানেও হয়েছে তাই।

সিমরিন নানা সময়েই নানা কারণে আলোচিত এবং সমালোচিত। এবার যে কয়েকটি বক্তব্যের জন্য তার সমালোচনা হয়েছে আমি তা খুব মন দিয়ে শুনেছি। খুব বেশি ভুল কিছু বলেনি। যেমন সে লাল,নীল রঙ নিয়ে বলেছে, সেই সাথে বলেছে কথায় লজিক থাকতে হবে। সে কী বুঝাতে চেয়েছে তা অনেকে বুঝতেই পারেনি। হয়তো এটুকু শুনে অনেকে আমাকে বলবে ওই মিয়া তুমি মনে হয় অনেক বুঝেছ। আমি তার ওই বক্তব্য থেকে এটা বুঝেছি যে সিমরিন বড় হচ্ছে। তাকে এখন ক্লাস টুতে পড়ুয়া বাচ্চাকে যে প্রশ্ন করা যায় মানে তোমার প্রিয় রঙ কী? তুমি কী খেতে পছন্দ করো এইটাইপ প্রশ্ন এখন আর সিমরিনের ক্ষেত্রে খাটে না। সে আসলে সেটাই বুঝাতে চেয়েছে যে তাকে আরেকটু আপগ্রেডেড প্রশ্ন করুন। সে সেটাই এক্সপেক্ট করে।

যে কথাগুলি বলার কারণে সিমরিনকে নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে,ট্রল হচ্ছে সেই একই কথা আপনি বলে দেখুনতো। কেউ সমালোচনা করবে না, কেউ শেয়ার করবে না, কেউ দেখবেও না। কারণ আপনি নিজেকে এমন কোনো পর্যায়ে নিতে পারেননি যার কারণে আপনার বলা যে কোনো কথাই আলোচনার জন্ম দিতে পারে। সিমরিনের বয়স ১৩ হলেও সে ঠিক সেই অবস্থানটা তৈরি করতে পেরেছে যে অবস্থান থাকলে মানুষ তাকে নিয়ে আলোচনা অথবা সমালোচনা করতে বাধ্য হয়। শুধু সিমরিন একা নয় বরং আরও অনেকের অনেক বিষয় নিয়েই সমালোচনা হয়। এতে যাদের সমালোচনা হয় তাদের লাভ ছাড়া ক্ষতি হয় বলে আমি মনে করি না। আমি দূর থেকে এগুলো বেশ খেয়াল করে দেখেছি।  মানুষ তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে আরেকজনের সমালোচনা করে বরং তাকে আরও পরিচিত করে তোলে,পক্ষান্তরে তারা সেই আগের স্টেশনেই থেকে যায়। এবারের যে সমালোচনা হচ্ছে সেটা দুদিন হলো। আমি দেখলাম এই দুদিনে সিমরিনের ফলোয়ার বেড়েছে ১৬ হাজার! তাহলে কী দাঁড়ালো?  সমালোচনা করার পর তারতো ফলোয়ার কমার কথা ছিলো কিন্তু বেড়ে গেল।

আপনি একজন মানুষ দেখাতে পারবেন যার সমালোচনা হয় না বা হয়নি? আমিতো ভাবি এতোগুলা ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালে এই দেশের ৯৯ ভাগ মানুষ কোনো প্রশ্নের উত্তরই দিতে পারবে না। এর ভুরিভুরি প্রমাণ আপনি টিভি চ্যানেল খুললেই দেখতে পাবেন। এইতো সেদিন বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনায় মত্ত কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে প্রশ্ন করা হলো বিশ্বকাপ কোথায় হচ্ছে? তারা তা বলতেই পারেনি! এমনকি বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক কে সেটাও তারা বলতে পারেনি। অথচ তারা বাংলাদেশী এবং বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জড়িয়ে দলকে সমর্থন করছে। একজীবনে বহু মানুষকে কাছ থেকে দেখেছি মাইকের সামনে থরথর করে কাঁপে,কথা বলতে পারে না। এই যে কোনো রকম সমস্যা ছাড়াই আমি হাজার হাজার শব্দের এই লেখাটি লিখলাম এই আমিও ক্যামেরার সামনে ঠিকভাবে কথা বলতে পারি না। আর এই ছোট্ট মেয়েটা ইন্সট্যান্ট যে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে।  তাকে শিখিয়ে দিতে হচ্ছে না। হ্যাঁ কিছু ভুল সেক্ষেত্রে হতেই পারে। সিমরিন সেদিন আরও যে কথাটি বলে সমালোচিত হয়েছে সেটি হলো সিমরিন বলেছে বঙ্গবন্ধু রক্ত দিয়েছে বলেই আমরা স্বাধীন একটি দেশ পেয়েছি। এটা ঠিক যে ১৯৭১ এ তিনি রক্ত দেননি তবে তাঁর ৭ মার্চের ভাষণে তিনি বলেছিলেন রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো। সিমরিনের মত ছোট্ট একটি মেয়ে সেই ভাষণ শুনে এটা মনে করাই স্বাভাবিক যে তিনি রক্ত দিয়েছিলেন। তা না হলে কেন তিনি বললেন রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেবো? বিশ্বাস না হলে আপনি আপনার আসেপাশে থাকা ওর বয়সী বা কাছাকাছি বয়সী কাউকে ওই ভাষণ শুনিয়ে প্রশ্ন করে দেখতে পারেন।

যারা সিমরিন বা অন্য আরও অনেক মানুষ নিয়ে ট্রল করে,হাসাহাসি করে তাদের নিজেদের যোগ্যতা কতটুকু সেটা আমার জানা নেই। তারা চাইলে সিমরিনের সাথে তাদেরকে টকশোতে ডাকা যেতে পারে। তারাতো বয়সে বড়,লেখাপড়া বেশি,মানুষকে নিয়ে ট্রল করে। তা থেকে ধরে নেওয়া যায় তারা সব কিছুতেই সিমরিন থেকে এগিয়ে। তো সিমরিনের সাথে টকশো হোক। সিমরিন তাদের প্রশ্ন করবে আর তারা উত্তর দিবে। সেখানে টিভি চ্যানেল থাকবে না। ফলে তাদের কিছুটা সুবিধা হবে। তখন দেখা যাবে কার দৌড় কতদূর।

মার্কেটিং বিষয়ে ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে আমি বুঝেছি পজিটিভ বিষয়ের চেয়ে নেগেটিভ বিষয় বেশি আলোচিত হয়। সিমরিনের পেজ অনেক দিন থেকে ফলো করে দেখেছি তার হিজাব পরা ছবি বা ভিডিও তেমন লাইক পায় না, শেয়ার হয় না। ইসলামিক বিষয়ে বানানো ভিডিও তেমন লাইক পায় না, শেয়ার হয় না। আলোচনাও করে না কেউ। কিন্তু নাচ,গান বা একটু কথা ছুটে গেলেই তুমুল আলোচনা সমালোচনা হয়। আবার তারাই বলে সিমরিন কেন এ করে, তা করে? তারা যা করতে বলে সিমরিন যখন সেটা করে তখন কিন্তু তারা সেগুলোর প্রশংসা করে না। ভাইরাল করে না। তাহলে মূল সমস্যা কার? সিমরিনের নাকি বাকিদের? বাকিরাতো নিজের যোগ্যতায় কিছু করতে পারে না। পরগাছার মত সিমরিনদের মত মানুষের কাঁধে ভর করে ফায়দা লুটতে চায়। শুধু সিমরিন কেন? এই ধারা বাকি সবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আমি দেখেছি এদেশের সর্বক্ষেত্রেই ভালো বিষয়গুলোতে মানুষের আগ্রহ কম। মানুষের সাড়া পাওয়া যায় না। কিন্তু খারাপ বিষয় হলে হুড়মুড়িয়ে পড়ে। যারা বিভিন্ন মানুষের টাইমলাইনে গিয়ে পর্দার কথা বলে,তারা নিজেরা কেন তাহলে সেই বেপর্দা মানুষটিকে দিনের পর দিন ফলো করে? তার মানে হলো তারা মনে মনে তাকে ওভাবে দেখে শান্তি পায়। সাকিব আল হাসানকে শো রুম আল হাসান বলা মানুষগুলোও তাকে সামনে পেলে সেলফী তুলতে প্রাণপণে চেষ্টা করবে।পরীমণিকে বাজারের মেয়ে বলা লোকগুলোও পরীমণি আসলে ছবি তুলবে,সমাদর করবে। এর অনেক প্রমান আমরা সময়ে সময়ে দেখতে পাই। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা যা মন্তব্য করি, যা শেয়ার করি তার একটা শক্তি আছে। সেই যে একটা লাঠি সহজে ভাঙা গেলেও একসাথে অনেকগুলো লাঠি একত্র করলে তা যেমন ভাঙা যায় না বলে একটি শিক্ষনীয় গল্প আছে ঠিক সেরকম। আমার একার একটি মন্তব্য বা একটি পোস্ট হয়তো প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। কিন্তু সেই একই পোস্ট একই কথা যদি কোটি কোটি মানুষ বলে তাহলে সেটির যথেষ্ট গুরুত্ব থাকে। অনেক পরিবেশ বদলে দেওয়া যায়। আজ যারা সমালোচিত হয়েছে তারা একদিন অপরিচিত ছিলো বা অল্প পরিচিত ছিলো। বহু মানুষের কথার কারণে আজ তারা পরিচিত। এই বহুমানুষ যদি বেহুদা বিষয়ে ট্রল না করে সমাজ পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে ভালো বিষয় নিয়ে লিখতো,কথা বলতো, আওয়াজ তুলতো তবে প্রেক্ষাপট আমুল বদলে যেতে পারতো। সাগর রুনির হত্যাকান্ড থেকে শুরু করে নির্বাচনের অনিয়ম কিংবা সামাজিক নানা অসংগতি নিয়ে একই ভাবে কোটি কোটি মানুষ যদি আওয়াজ তুলতো তবে কতইনা ভালো হতো। কিন্তু আমরা তা করি না।

আফসোস মানুষ যাদের ট্রল করে বড় হতে চায়, আলোচনায় থাকতে চায়,ট্রল করে, সেই হিরো আলম, জায়েদ খান বা তার মতরা যদি না থাকতো তবে অথর্বের মত ভাগাড়েই পড়ে থাকতো ট্রলকারিরা। অন্যের কাঁধে ভর করে ফায়দা লুটতে থাকা এই মানুষগুলো কোন সাধুসন্ত তা মানুষ জানে। পারলে নিজের যোগ্যতায় কিছু করে দেখাতো তবে ভালো হতো।

আমাদের দেশের মানুষের রীতিই আলাদা। তারা নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কখনো ভাবে না বরং অন্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। তাদের পেটের ভাত হজম হয় না অন্যের চিন্তায়। কথায় কথায় এসে বলে এসব বাদ দিয়ে পড়াশোনা করো। তাদের কাছে পড়াশোনাই জীবনের একমাত্র ধ্যানজ্ঞান। পড়াশোনার বাইরেও যে সফলতা আসে তা তারা কখানো ভাবতেই পারে না। মেনে নিতে পারে না। তারা যদি জানতো  যে তারা যাদের সমালোচনা করে তারা কোনো কালেও তাদের সমকক্ষ হতে পারবে না। নিজের চরকায় তেল না দিয়ে লোকে অন্যের বিষয় নিয়ে বিজি। আর এটা করতে গিয়ে যে নিজেরই সময়ের অপচয় তা কেউ ভাবে না।

অল্প বয়সে পরিণত মানুষের মত গুরুগম্ভীর বিষয়ে যখন কোনো বাচ্চা কথা বলে তখন দেখি একদল লোক মন্তব্য করে এই বয়সে এসব নিয়ে কথা বলা ঠিক না! ফাতিহা আয়াতের পেজে এটা আমি বেশি দেখি। কথা বলার জন্য নাকি বয়স লাগে! আর এই ধারণায় বিশ্বাসী হওয়ার কারণেই মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও আমাদের দেশে ১৪/১৫ বছর বয়স না হলে এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারে না কিন্তু অন্য দেশে মেধা থাকলে ১২ বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া যায়। মেধাকে আমরা ভোটাধিকারের মাপে মাপতে চাই। আঠার বছর না হলে যেমন ভোটার হওয়া যাবে না অনেকটা সেরকম। বয়সীরা যখন কথার নামে মিথ্যাচার করে তখন অল্প বয়সী কেউ সত্য বললে তা গ্রহণ করা উচিত।

ট্রল করার নাম করে আমরা কী হাছিল করতে চাই সেটা হয়তো আমরা নিজেরাই জানি না। কিন্তু যাদের নিয়ে ট্রল করি তারা না আমাদের ট্রলকে পাত্তা দেয়, না তাদের রাতের ঘুম হারাম করে। তারা দিব্যি তাদের কাজ চালিয়ে যায়। তারপর একদিন দেখি ছোট্ট আলোকবিন্দুটি একদিন বিশাল সূর্যের মত দীপ্তিময় হয়ে উঠেছে। 

নানা সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু শব্দ দিয়ে মানুষ মন্তব্য করে যেমন ফুটফুটে সুন্দর,সিদ্ধ ডিম আরও অনেক কিছু। এটাও ট্রল করার জন্য ব্যবহার করে। অন্য কোনো দিন সেসব নিয়েও লিখবো। যে দেশের এক শ্রেণীর শিক্ষিত কিছু মানুষ মনে করে ইউনুস টাকা দিয়ে নোবেল পুরস্কার কিনেছে, সেই দেশের কিছু মানুষ ট্রল করবে এটাই স্বাভাবিক। ওদের জন্মই হয়েছে ট্রল করার জন্য। অথচ ইউনুসের চেয়ে তাদের টাকা পয়সার কমতি নেই। তাহলে কেন তারা একটা পুরস্কার কিনে নেয় না? এই প্রশ্ন করলে অবশ্য তাদের মুখে আর কোনো কথা আসে না। 

লেখক: ইবনে মোশাররফ

১৬ অক্টোবর ২০২৩

Facebook Comments Box

বিষয় ভিত্তিক পোস্ট

শহীদুল ইসলামspot_img

সাম্প্রতিক পোস্ট