"পোড়া লাশ"
কলমেঃ নাইমুল
বাঁশের ভেলা, বাঁশের দোলা
চারিদিকে শুধু বাঁশ
মাঝখানে তার শুয়ে থাকে
একটা মরা লাশ ।
বানিয়ে পঞ্চগুণ
সিন্ধু-বিন্দু অতি নিপুণ
বাঁশে ছিটিয়ে ধোনা
কৃষ্ণ বলিয়া দেয় আগুন।
বাঁশের কি যে গুণ
ধরিলে আগুন
জ্বলিবে দ্বিগুণ ।
লাশ পুড়িবে তাই
শরীর পুড়ে ছাই
যদিও তার শরীর পুড়ে
তার আত্মা পুড়ে নাই।
আত্মা তাহার স্বর্গদেশে
যায় নাকি উড়ে উড়ে
তবে কেন বোকা সাধু
মিছেই শুধু শরীর পুড়ে ?
মরণ যজ্ঞ করিয়া সুদর্শন
জোছনার মতোন
পোড়াও যদি সারাক্ষণ
শরীর পুড়ে ছাই হবে
কিন্তু ধরবে না পচন
তবে এ কেমন মরণ ??
পোড়ার পরে স্বর্গ পাবে
যদি এমনি হয় মরণ
আঁচল আঁড়ালে স্বজন কাঁদে
কি বা তার কারণ ??
মরণের কি শেষ নাই তবে
সে কি ভিন্নরূপে সীমাহীন??
কাহার দাফন , কাহার পোড়ন
কেউবা মরিয়াও মলিন ।
লাশ পোড়া !
এটা কী ??
এটা কেমন তোদের নীতি
বাঁশ দিয়ে সাজানো
আবার বাঁশ দিয়েই ইতি !
"আমিও মুজিব হবো"
নাইমুল
প্রতিদিন ভোরে স্বপ্ন দেখি
আমিও হবো মুজিব
মুজিবের মতো দানবীর হবো
কিছু এলাকা করেছি জরিপ।
প্রতিদিন ভোরে স্বপ্ন দেখি
আমিও হয়েছি মুজিব
পূর্ব বাংলা টু পশ্চিম বাংলায়
পাইনি কোনো গরিব।
মুজিবের মতো দরদী হবো
হবো আমি বিশ্ব নেতা
অত্যাচারীদের বুকে ধরবো বন্দুক
গালে মারবো জুতা।
আমি মুজিবের মতো খোকা হবো
গায়ের চাদর অন্যকে করিব দান
নিজেকে আমি বিলিন করিব
কভুও চাইবো না প্রতিদান।
হবো মুজিবের মতো দেশপ্রেমিক
দেব দেশের স্বার্থে প্রাণ
দারিদ্রতা আমি দূর করিবো
না হলে নিজেকে দিব বলিদান।
হতে চাই সংগ্রামী মুজিব
করতে চাই জীবন সংগ্রাম
দেশকে আমি বাঁচাতে চাই
বাঁচাতে চাই ছিয়াশি হাজার গ্রাম।
হতে চাই বিদ্রোহী মুজিবের মতো
দিতে চাই অগ্নিঝরা বক্তব্য
সাতের বদলে ষোল কোটি জনতার
পালন করিবো যথা কর্তব্য।
হতে চাই মুজিবের মতো রাষ্ট্রপতি
প্রতিষ্ঠা করিব "শান্তিনগর সরকার"
যেখানে অসহায়েরা ত্রাণ পাবে
সম্মানি, উপহার বা ঘুষ হবে না দরকার।
দিতে চাই মুজিবের বানী ঘোষণা
ঠেকাতে চাই যুদ্ধ পরাজয়
আমি চোখে আঙুল দিয়ে
দেখিয়ে দিতে চাই বাঙ্গালীর বিজয়।
পাকিস্তানির ন্যায় যারা করে বৈসম্য
ভেঙে দেব তাদের বাঁকা হাত
মুখে থুথু আর লাঠির পিটুনিতে
আমার বাংলা থেকে করবো উৎখাত।
আমি মুজিবের কন্ঠে জনতাকে ডাকবো
নিপীড়িত জনতার ঘুম ভাঙ্গাবো
আমি প্রতিদিন ভোরে স্বপ্ন দেখি
আমিও একদিন মুজিব হবো।
"ক্ষুধা"
- নাইমুল ইসলাম
এক মুঠো পান্তা দিবি ?
দেনারে ও অর্থভিলাসী -
ক্ষুধার্ত দেহ আজ কঙ্কাল
আমি মানব রাক্ষুসী।
ভাত দে, ভাত দে
কপাটে কপাটে ভিক্ষা চাই-
জল নে, ডাঙ্গা নে
শুধু এক মুঠো ভাত চাই।
হাজার হাজার মানুষ
কত্তো সমাগম-
এক মুঠো ভাত নেই শুধু
ক্ষুধায় মরি হরদম ।
এক মুঠো ভাত জোটে না
জোটে থুথু আর জুতা-
তাইতো কুকুর বেশে থালা চেটে খাই
মিটাই আপন ক্ষুধা।
ডাস্টবিন থেকেও মাঝে মাঝে
পলিথিন চেটে খাই-
সুঁই আর বিষ থাকে তাতে
বিবেকের মূল্য কোথায় থাকে।
অন্ধরূপী সমাজ আমার
যেথায় মনুষ্যত্ব, বিবেক নাই
সেথায় অভুক্ত এক কুকুর আমি
কেমনে এক মুঠো ভাত পাই ।
আহারে -
তোমাদের উলঙ্গরূপী সমাজ ,
কুকুরেরও খাবারটুকু নাই-
অভুক্ত কুকুর আমি
,বাসি হোক, পঁচা হোক
এক মুঠো ভাত চাই।
"নিরবতা "
নাইমুল
এই যে আমি এমন
নিজেও জানি না কেমন?
আমি ঠিক এমনই
যেমন নদীর ঢেউ,
আমি যে আসলে কেমন
বুঝলো না আর কেউ।
আমি বর্ষা বানের জলে
আমি বৃষ্টি ছলাৎ ছল,
আমি কাটা ভরা শিমুল
আমি গন্ধে মাকাল-ফল।
আমি বঙ্গসাগরের ভেলা,
আমি অগ্নি নিয়ে করি খেলা।
আমি জলে যুদ্ধ করি,
আমি বৈঠা বিহীন তরী ,
একটু খানি বাঁচার আশায়
নঙ্গর টেনে ধরি।
আপনারে বলি যে আমি
আমার আপন কথা,
আমার বক্ক ভরা ব্যাথা ,
আমি ভগবান চরণে রাখি মাথা,
আমি মানি না মনুষ্য বাধা,
আমি করি না কাউকে মান্য,
আমি ভালোবাসি ধনধান্য,
আমি নয়ন ঝড়াই নয়নের পানে
আমি আর ছাড়া আর না কেহ জানে ।
আমি আজীবন কৃষ্ণরাত্রী
আমি নিরব সহযাত্রী,
আমি পাষন্ড, আমি কুষমুন্ড
ভালোবাসি শুধু ধাত্রী।
আমি কাউকে বলিনি কথা
ওরা বলে
এটাই নিরবতা ।
হে মোর নির্বোধজাতি
হে মোর রব,হে মোর বিধাতা
এটা কি আসলেই নিরবতা??
"১৫ ই আগস্ট "
নাইমুল ইসলাম
আমার কাছে ১৫ আগস্ট মানে
দেশদ্রোহীর হাতে বাঙ্গালীর
সর্বনাশ।
পুত্রের কাছে বাঁধভাঙা কান্না,
অশ্রু জলে গোসল করা
বঙ্গবন্ধু মুজিবের লাশ।
১৫ ই আগস্ট জাতীয় শোকের দিন
বীর বাঙ্গালীর মৃত্যু, অশ্রুসিক্ত দিন।
এদিন বাঙ্গালীর অশ্রু প্লাবন
বঙ্গবন্ধু মুজিবের রক্ত শ্রাবণ।
পঁচাত্তরের ১৫ ই আগস্ট সূর্য উদয় পূর্বে
মুজিবের বুক ঝাঁঝরা , বুলেটের গর্বে ।
বুকের পতিত রক্ত বাংলার অশ্রুপাত
আরেকবার আয় তোরা
দেখিয়ে দেব আমরা
বাংলা বাঙ্গালীর সহজাত।
সেদিন থেকেই বুকে জলছে
শোকের আগুন বর্বরতা
সেদিন থেকেই তুমি বাংলার বাপ
বাঙ্গালী জাতির পিতা।
তুমি বাংলার জন্মদাতা।
আমি চাই ১৫ ই আগস্ট আবার আসুক
পু্রো বাংলায় মুজিব হাসুক ।
দেখতে চাই কীভাবে ওরা আসে
কীভাবে মুজিব হত্যা করে
যার চোখে পুরো বাংলা হাসে
বাংলা যাকে ভালোবাসে।
আবার যদি ওরা আসে
আমি তাদের খুনী হাত ভেঙে
রাখবো আমার যাদুঘরে
আমি তাদের বিনাশ করবো
দোখাবো কেমনে পাপীরা মরে।
যাদের তরে হারালো বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান
আমার কাছে ওটা তো পাপিস্তান
ওরা চোর , লুটতরাজ, ওরা খুনী
মুজিব তুমি জাতির পিতা
আমরা তোমায় ভুলিনি।
মুজিব তুমি আমৃত্যু ও বরনীয়
১৫ ই আগস্ট তুমি স্মরনীয়।
