ষাট গম্বুজ মসজিদ ইতিহাস, স্থাপত্য ও সৌন্দর্য

0
328

ষাট গম্বুজ মসজিদ ইতিহাস, স্থাপত্য ও সৌন্দর্য। ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশে খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত। এটি ১৫শ শতকের মধ্যভাগে খান জাহান আলি নামে একজন মুসলিম গভর্নরের নেতৃত্বে নির্মিত হয়। এই মসজিদটি বাংলা স্থাপত্যের একটি অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয় এবং UNESCO বিশ্বঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

ইতিহাস

মধ্যযুগে বাগেরহাট অঞ্চলে মুসলিম উপনিবেশ গড়ে ওঠে, যেখানে খান জাহান আলি শহর নির্মাণ করেন। তার নেতৃত্বে ১৪৪২ খ্রিস্টাব্দে মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং প্রায় ১৪৫৯ সালে তা সম্পন্ন হয়। এটি মূলত ধর্মীয় উপাসনার জন্য তৈরি হলেও স্থাপত্য এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্বের কারণে এটি ঐতিহাসিকভাবে বিশেষভাবে মূল্যবান।

স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য

মসজিদটি আয়তাকার আকারের এবং ভিতরে ৬০টি পিলার আছে। এই পিলারগুলো ৭৭টি গম্বুজকে সমর্থন করে, যা মসজিদকে তার নাম “ষাট গম্বুজ” দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এখানে ৮১টি গম্বুজ আছে: মূল Prayer Hall-এ ৭৭টি এবং কোণের চারটি। মসজিদের পূর্ব দিকের ১১টি দরজা, এবং উত্তর ও দক্ষিণ পাশে প্রতিটিতে ৭টি করে দরজা রয়েছে। এতে অভ্যন্তরটি উজ্জ্বল ও শীতল থাকে। চার কোণায় আছে গোলাকার টাওয়ার, যা কখনো আজানের জন্য ব্যবহৃত হতো।

সাংস্কৃতিক গুরুত্ব

ষাট গম্বুজ মসজিদ শুধু ধর্মীয় কেন্দ্র নয়; এটি স্থাপত্য, ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাংলা সুলতান যুগের বৃহত্তম মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। মসজিদের প্রতিটি পিলার, গম্বুজ এবং আর্চ স্থানীয় স্থাপত্যকলার এক অনন্য উদাহরণ।

পরিদর্শন

বাগেরহাট শহর থেকে সহজে অটোরিকশা বা সিএনজি দ্বারা মসজিদে যাওয়া যায়। ভ্রমণের জন্য সকাল বা সন্ধ্যার সময় সবচেয়ে উপযুক্ত। মসজিদে প্রবেশের আগে পোশাক ও শালীনতার দিকে মনোযোগ দেওয়া উত্তম। পর্যটকরা এখানে ইতিহাস ও স্থাপত্যের সৌন্দর্য একসঙ্গে অনুভব করতে পারেন।


ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের এক গর্বিত ইতিহাস, যা আমাদের দেশের স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উজ্জ্বল নিদর্শন। একবার দেখলেই এর গম্বুজ, পিলার এবং আর্চের জটিল সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে।

ছবি

ষাট গম্বুজ মসজিদ
মসজিদের অভ্যন্তর

উৎস: Wikipedia – Sixty Dome Mosque

আরও পড়ুন: বিহারে ভেসে ওঠা মসজিদ শৈশবের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here