নুজহাত তাবাসসুম ইপ্সিতা
রেহান সাহেব একটা বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন।তার এক মেয়ে এক ছেলে।মেয়ের বয়স ১৪ বছর। ছেলের বয়স ৬ বছর।তিনি একটা বিয়ের দাওয়াত পেয়েছেন। তার সম্পত্তি ও মেয়ের উপর অনেকেরই কম,বেশি নজর আছে। গ্রামে এই সম্পত্তি নিয়ে বিভিন্ন মামলাও হয়েছে। ওনার কম, বেশি গোপন শত্রু রয়েছেন। কিন্তু তিনি তা তেমন পাত্তা দেন না।ওনার স্ত্রী এই নিয়ে ভীষণ ভয় এ থাকেন।মেয়েকে স্কুলে পাঠাতেও তিনি অনেক ভয় পান।
সপরিবারে তারা বিয়ের অনুষ্ঠানে গেল।রেহান সাহেবকে যারা হিংসা করতেন এবং তার সাথে খারাপ আচরণ করতেন তারাও আজ কেন যেন খুব বেশি ভালো ব্যবহার করছেন।তিনি তাই একটু অবাক হয়ে গেল।এমনকি এই অফিসে তার এক কাজিনও চাকরি করেন।ওনার জীবনে খুনের কয়েকটা রেকর্ড আছে।
রেহান সাহেবের স্ত্রী মিতু তাই ভয়ে ভয়ে এখানে এসেছেন।
কিছুক্ষণ পরে খাওয়ার সময় হয়ে গেল। সবাইকে খাবার দেওয়া হলো।কিন্তু রেহান সাহেবের পরিবারকে একটা ভিআইপি রুমে নিয়ে স্পেশাল খাবার পরিবেশন করা হলো।তারা এই বিষয়ে অবাক হলেও বেশ খুশিই হলেন।রেহান সাহেবের মেয়ে রিয়ার আবার সকাল থেকে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ছিল।তাই সে আগেই ঠিক করে রেখেছে কিছু খাবে না।সবাই খাওয়া শুরু করলেন।তার সাথে রেহান সাহেবের পরিবারও।শুধু রিয়া বাদে।খাওয়ার সাথে সাথে তাদের হেচকি,কাশি শুরু হয়। রিয়া অবাক হয়ে যায়।কাটণ তার এমন কিছু হচ্ছে না।তবে কি এই খাবারের মধ্যেই কিছু আছে। তার মা,বাবা ও ভাইয়ের মুখ থেকে রক্ত বের হয়।তার আর বুঝতে বাকি নেই যে খাবারের ভিতর বিষ মেশানো আছে। তার মা ও বাবা তাকে অনুরোধ করে, “তুই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এখান থেকে পালিয়ে যা!” সে প্রথমে তার পরিবার ছেড়ে পালাতে না চাইলেও নিজের জীবনের ভয় করে পালাতে বাধ্য হয়।
এরপর তাদের শত্রুদল একে একে তাদের শরীর দা দিয়ে আঘাত করতে শুরু করেন।তাদেরকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়।শুধুমাত্র সম্পত্তির কারণে।তাছাড়া রেহান সাহেবের অতিরিক্ত প্রমোশন এবং বিলাসবহুল জীবন অনেকের সহ্য হচ্ছিল না।
রিয়া খুব কষ্টে তার বাড়ি পৌঁছাতে পারে। সে পুলিশকে খবরও দিয়েছিল।কিন্তু ততক্ষণে তার পরিবার পুরো শেষ।এখনো কেস এর তদন্ত চলছে।রিয়া প্রতিদিন সকাল বেলা তার রুমের জানালার পাশে তাদের ফ্যামিলি ফটো নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে আর অঝোরে কাঁদতে থাকে। সূর্যের আলো যখন ছবির উপরে পরে তখন সে দেখতে পাই সে ব্যতীত তার মা,বাবা আর ভাইয়ের চেহারা রক্তাক্ত। এটি দেখে সে ভয় পেয়ে যায়। তাছাড়া প্রতিদিন রাতের বেলা সে শুনতে পায় তাদের খাবার টেবিলে তার মা,বাবা এবং ভাই গল্প করতে করতে খাবার খাচ্ছেন। এগুলো সে নিয়মিত দেখতে ও শুনতে পায়।অথচ অন্য কাউকে ডাকলে তখন আর কেউই সেখানে থাকেন না।


