শুভজিৎ দত্তগুপ্ত
পশ্চিমবঙ্গের ছোট্ট গ্রাম চন্দনপুরে আষাঢ়ের ভোরে একটা আজগুবি শব্দ উঠল — একটা দীর্ঘ গুঞ্জন যা গ্রামের সবাইকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিল। শব্দটা এত অদ্ভুত, যেন বাতাসের মধ্য থেকে কোনো অদেখা শক্তি ঝঙ্কৃত হচ্ছে। কেউ জানত না এটি কোথা থেকে আসছে।
পরদিন গ্রামের কিশোর সুমন প্রথম যে জায়গায় শব্দ শুনেছিল, সে পুরনো বনে এক অদ্ভুত আলোর ঝলক লক্ষ্য করল। আলো যেন কারো টর্চলাইট নয়, বরং এক ধরনের প্রাচীন সিগন্যাল। সুমন গুটিগুটি পায়ে বনে ঢুকল, আর সঙ্গে নিয়ে গেল তার বন্ধু ঝুমুরদা দাদা ও মীনা-কে।
বনে ঢুকতেই তারা আবিষ্কার করল — বাঁশঝাড়ের ভেতর একটি গোপন পথ লুকিয়ে আছে। পথের শেষে ছোট্ট একটা কূপ, যেখানে আষাঢ়ের বৃষ্টির জল জমে থাকে। কূপের পানিতে কেউ যেন অদ্ভুত প্রতিচ্ছবি দেখাল — গ্রামের পুরনো যাজকের মুখ! যিনি বহু বছর আগে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছিলেন।
হঠাৎ কূপের পাশে এক মন্দিরের ভগ্নাংশের খোঁজ পেলেন তারা, যেখানে লেখা ছিল:
“যখন আষাঢ়ের বৃষ্টি পড়বে, কূপের জল গুঞ্জন করবে — তখন গোপন সত্য খুলে যাবে।”
তাদের জিজ্ঞাসা ছিল — এই আজগুবি শব্দ কি সেই গোপন সত্যের ইঙ্গিত? কেউ কি এখনও গ্রামে লুকিয়ে আছে?
তারা রাতে আবার বনে গেল, যেখানে শব্দ আরও জোরে গুঞ্জন করছিল, যেন কেউ তাদের ডেকেছে। হঠাৎ ঝুমুরদা দাদা একটি ছায়া দেখতে পেলেন, যে দ্রুত গাছের পিছনে লুকিয়ে গেল।
পরদিন গাঁয়ের বুড়ো মানুষদের কথা শুনে জানা গেল, অনেক বছর আগে গ্রামে একটি গুপ্তধন লুকানো ছিল। সেই গুপ্তধনের পাহারাদার ছিলেন সেই নিখোঁজ যাজক। আজগুবি শব্দ আর আলোর ঝলক হয়তো সেই গুপ্তধনের ইঙ্গিত!
শেষে সুমন, মীনা আর ঝুমুরদা দাদা একসাথে ওই কূপের পানিতে হাত দিয়ে মাটির নিচে ঢুকতে পারল। তারা গভীর গুহার মুখে দাঁড়াল, যেখানে গুপ্তধনের কিছু চিহ্ন আঁকা।
তাদের মনে হলো, শুধু প্রকৃতি নয়, গ্রামের অতীতও এই শব্দ দিয়ে কথা বলছে — এক অদেখা পৃথিবীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছে। তারা ঠিক করল এই রহস্য উদঘাটনের জন্য গাঁয়ের সবাইকে জড়ো করবে।
“আষাঢ়ের অচেনা কাঁপন” — এখন শুধু শব্দ নয়, এক রহস্যময় যাত্রার শুরু।


