back to top
Saturday, April 4, 2026
Homeফিচারইতিহাসের রহস্যময় এক মমি

ইতিহাসের রহস্যময় এক মমি

টি এইচ মাহির

গত এক শতাব্দী ধরে চলা আসা এক রহস্যময় মমি ‘স্টোনম্যান উইলি’। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আস্বাভাবিক পোস্টমর্টেম গুলোর একটি এই ঘটনা। গত এক শতাব্দী ধরে কৌতুহলী ও রহস্যময় ঘটনার মধ্যে একটি ছিল এটি। ঘটনাটি মূলত স্টোনম্যান উইলি এক ব্যাক্তিকে নিয়ে। যে কিনা ১৮৯৫ সালে স্থানীয় কারাগারে মারা যান, যেখানে পকেটমারির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার কিডনি বিকল হয়ে পড়ে। গ্রেপ্তারের সময় সে কর্তৃপক্ষকে একটি মিথ্যা নাম দিয়েছিল। পুরোনো নথি থেকে জানা যায় সে তার পরিবারের লজ্জা থেকে বাঁচতে ‘জেমস পেন’ নাম দিয়েছিল। পরে সে স্বীকার করশ যে নামটি ভুয়া ছিল।কিন্তু ৩৭ বছর বয়সে কিডনি বিকল হয়ে মারা যাওয়ার আগেও সে তার আসল পরিচয় প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরিবারের কেউ তার মৃতদেহ দাবি না করায় বা নিতে না আসায়,তার দেহ যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার রিডিংয়ের থিও সি. আউমানের ফিউনারেল হোমে রাখা হয়।

পেনসিলভানিয়ার শহর রিডিং-এ অবস্থিত ফিউনারেল হোমে একজন মৃতদেহ প্রস্তুতকারী দুর্ঘটনাক্রমে তাকে মমি করে ফেলেন যিনি নতুন শ্বসন কৌশল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিলেন। উনিশ শতকের দিকেও মৃতদেহকে মমি করার প্রচলন ছিল। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পরিচালক থিও আউমান তখনকার দিনে ব্যবহৃত কৌশল ব্যবহার করে অজান্তেই প্রাকৃতিক মমিকরণের এক অসাধারণ উদাহরণ তৈরি করেছিলেন। এই প্রক্রিয়ায় আর্দ্রতা দূর হয়ে যায় এবং ত্বক এতটাই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সংরক্ষণ করা হয় যে মৃতদেহটি শক্ত হয়ে চামড়ার মতো হয়ে যায়। যার ফলে এটি “স্টোনম্যান উইলি” ডাকনাম লাভ করে। তার চুল এবং দাঁত অক্ষত ছিল যা দেহটিকে আরো গভীর রহস্যময় করে তোলে। 

মমি হয়ে যাওয়ার ফলে দেহটিকে আর দাফন করা হয়নি। বরং স্যুট এবং বো টাই পরিহিত স্টোনম্যান উইলিকে একটি কফিনে প্রদর্শন করা হয়। তার চুল এবং দাঁত অক্ষত রয়েছে এবং তার ত্বক চামড়ার মতো দেখাচ্ছে।রিডিং-এর বাসিন্দারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম  ধরে স্কুলছাত্র, পর্যটক এবং কৌতূহলী দর্শনার্থী সহ সকলে এই সংরক্ষিত মমির কফিন দেখতে আসে কৌতুহলী মনে। স্থানীয়রা রসিকতা করেছিল যে উইলি তাদের সকলের চেয়েও বেশি বেঁচে ছিলেন। উইলিকে নিয়ে কল্পকাহিনীও প্রচলন হয়। রহস্য ও লোককথা ছিল মানুষের মুখে মুখে।এমনকি তাকে “আমাদের বন্ধু উইলি” বলেও ডাকা হতো।

কয়েক দশক ধরে উইলির গল্পগুলো সত্য এবং লোককথার কল্পনার মিশ্রণ ঘটিয়েছে। উইলিত কফিনটি রাস্তার ধারে এক অদ্ভুত জিনিসে পরিণত হয়েছিল, যেখানে দর্শনার্থীরা ছবি তুলে লোকটির জীবন ও মৃত্যু নিয়ে জল্পনা-কল্পনা করত। তার সম্পর্কে খুব কমই জানা গিয়েছিল কেবল এইটুকুই জানা যায় সে জেলে মারা গিয়েছিল এবং প্রায় দুর্ঘটনাক্রমে মমি হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

প্রায় একশত বছরেরও বেশি সময় পরে ১২৮ বছর পরে পুলিশকে ভুল নাম বলা উইলির আসল পরিচয় খুঁজে পায় স্থানীয়রা। তারপরই তাকে দাফন করা হয়। ২০২৩ সালে ওই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া গৃহের পরিচালক কাইল ব্ল্যাঙ্কেনবিলার এবং স্থানীয় ইতিহাসবিদরা অবশেষে সূক্ষ্ম আর্কাইভাল গবেষণার মাধ্যমে লোকটির আসল পরিচয় খুঁজে পায়। তারা প্রমাণ করেন যে “উইলি” আসলে জেমস মারফি ছিলেন।যে কিনা একজন আইরিশ বংশোদ্ভূত ব্যক্তি যিনি মারা যাওয়ার সময় রিডিংয়ে অগ্নিনির্বাপকদের একটি সম্মেলনে ছিলেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে রিডিং শহরের ২৭৫তম বার্ষিকী উদযাপনের মধ্যে আয়োজিত একটি সমাধি অনুষ্ঠানে মারফির দেহাবশেষ অবশেষে ফরেস্ট হিলস মেমোরিয়াল পার্কে সমাহিত করা হয় ।তার আসল নামটি একটি সমাধিফলকে খোদাই করা হয়। 

শেষকৃত্যের জন্য শহরের  বাসিন্দা এবং দর্শনার্থীরা জড়ো হয়েছিলেন। উইলির গল্পটি শেষ হতে দেখে কেউ কেউ আবেগপ্রবণ হয়েছিলেন। আবার কেউ কেউ স্থানীয় ইতিহাসের এমন অস্বাভাবিক অংশ প্রত্যক্ষ করার জন্য বিস্মিত হয়েছিলেন। তাই উইলি কিংবা জেমস মারফি ইতিহাসের এক রহস্যময় চরিত্র হয়ে আছে। 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments