back to top
Wednesday, February 18, 2026
Homeগল্পগল্পের প্রতিধ্বনিহারিয়ে গিয়েও থাকা

হারিয়ে গিয়েও থাকা

ওমর ফারুক

একদিন বিকেল। গ্রামের আকাশে নরম রঙের মেঘ, বাতাসে এক ধরনের বিষণ্ণতা। স্কুল শেষে নাদিম হাঁটছিল একা, মাথায় ঘুরছিল ক্লাসে আজ শিক্ষকের বলা কথাগুলো—
“কেউ কেউ আছেন, যারা মৃত্যুর পরেও হারিয়ে যান না। তারা থাকেন আমাদের মাঝেই—অদৃশ্য, অথচ জীবন্ত।”

নাদিম ভাবছিল—এরা কারা? মানুষ মারা গেলে তো কবরে যায়। তাহলে তারা কীভাবে বেঁচে থাকে?

সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে দাদুর পাশে বসে সে জিজ্ঞেস করল,
“দাদু, কেউ মারা গেলে কীভাবে বেঁচে থাকতে পারে?”

দাদু একটু চুপ করে থাকলেন। তারপর ধীরে ধীরে উঠে গেলেন ঘরের কোণায়। একটা পুরোনো কাঠের বাক্স খুললেন। ভেতরে ছিল কয়েকটি হলুদ হয়ে যাওয়া চিঠি, একটি ছেঁড়া পতাকা, কিছু ব্যাজ আর ছোট্ট একটা নোটবুক।

দাদু মৃদু হেসে বললেন,
“এই জিনিসগুলোর মালিকদের কেউ চিনে না। কোনো বইয়ে নেই তাদের নাম। কিন্তু তারা এমন কিছু করে গেছে, যা মানুষ কখনো ভুলতে পারে না।”

নাদিম বলল, “কী করেছে তারা?”

দাদু চোখ বন্ধ করে বললেন,
“তারা নিজেদের জীবন দিয়ে দিয়েছে, যেন অন্যরা হাসতে পারে, স্কুলে যেতে পারে, ঘুমাতে পারে নিশ্চিন্তে। তারা নিজের জন্য বাঁচেনি, দেশের জন্য বেঁচেছে। মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছে, কিন্তু দেশের মাথা নিচু হতে দেয়নি। তাই তো বলি—তারা অমর।”

লিখুন প্রতিধ্বনিতেলিখুন প্রতিধ্বনিতে

নাদিম চুপ করে শুনছিল। তার মনে হচ্ছিল, যেন সেই মানুষগুলো এখনো ঘরের কোণায় দাঁড়িয়ে আছে—নীরবে, গর্ব নিয়ে।

দাদু বললেন,
“তাদের কোনো কবর চেনা নেই, কোনো মূর্তি নেই। তবুও তারা আছে—তোমার সাহসে, তোমার ন্যায়ের পথে হাঁটার সাহসিকতায়। যখন তুমি ভয় না পেয়ে সত্য বলবে, জানবে—তারা তোমার পাশে আছে।”

রাতের আকাশে তখন একটা তারা জ্বলজ্বল করছিল। নাদিম জানে না তার নাম। তবুও তার মনে হচ্ছিল, সেই তারা-ই একজন অমর।

সেদিন রাতে সে নিজের ডায়েরিতে লিখে রাখল:
“মৃত্যুর পরেও যাদের নাম ইতিহাসে—
তারাই তো অমর।
তারাই তো জীবিত।
তারাই তো দেশের বীরপুরুষ।
যারা নিজের কোমল প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে দেশের টানে,
তারা চিরজীবী—মানুষের হৃদয়ের ভেতর।
সময় বদলায়, মানুষ বদলায়,
কিন্তু অমররা থেকে যায়… নিঃশব্দ, কিন্তু অমোঘ হয়ে।”

প্রতিধ্বনি
প্রতিধ্বনিhttps://protiddhonii.com
প্রতিধ্বনি একটি অনলাইন ম্যাগাজিন। শিল্প,সাহিত্য,রাজনীতি,অর্থনীতি,ইতিহাস ঐতিহ্য সহ নানা বিষয়ে বিভিন্ন প্রজন্ম কী ভাবছে তা এখানে প্রকাশ করা হয়। নবীন প্রবীণ লেখকদের কাছে প্রতিধ্বনি একটি দারুণ প্ল্যাটফর্ম রুপে আবির্ভূত হয়েছে। সব বয়সী লেখক ও পাঠকদের জন্য নানা ভাবে প্রতিধ্বনি প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে। অনেক প্রতিভাবান লেখক আড়ালেই থেকে যায় তাদের লেখা প্রকাশের প্ল্যাটফর্মের অভাবে। আমরা সেই সব প্রতিভাবান লেখকদের লেখা সবার সামনে তুলে ধরতে চাই। আমরা চাই ন্যায়সঙ্গত প্রতিটি বিষয় দ্বিধাহীনচিত্ত্বে তুলে ধরতে। আপনিও যদি একজন সাহসী কলম সৈনিক হয়ে থাকেন তবে আপনাকে স্বাগতম। প্রতিধ্বনিতে যুক্ত হয়ে আওয়াজ তুলুন।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments