কবিতার প্রতিধ্বনি – কবিতার এক পাতা
প্রতিধ্বনির সাপ্তাহিক আয়োজন
০৬/০২/২০২৬ ||শুক্রবার
লেখা পাঠাতে নিচে ক্লিক করুন-
লিখেছেন যারা-
- ইকবাল খান
- উদয় পদ বর্মন
- তাহমিদুল্লাহ সারাসিনী
- নুজহাত তাবাসসুম ইপ্সিতা
- তোয়াবুর রহমান
- মামুন মাহমুদ
- রওশন মতিন
- রাহিল
ই-পেপার পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন অথবা এই পাতা থেকেই পড়ুন
আকাশ : তোমার শহর আর আমার শহর
ইকবাল খান
তোমার শহরের আকাশে গাছেরা আলো ধরে রাখে,
আমার শহরের আকাশে বাতাস ঘাসকে দোলায়।
দুটি দৃশ্য, দুটি গল্প—
তবু নীলের গভীরতা এক।
যেখানে তুমি,
সেখানেই আকাশ মৃদু গান গায়;
যেখানে আমি,
সেখানেও সেই গান ভেসে আসে—
অদৃশ্য সুরে, অনন্ত মিলনে।
একটা আঁশটে গন্ধ
উদয় পদ বর্মন
একটা পোড়া গন্ধ
পুড়ছে কথা
পুড়ছে গান
পুড়ছে সুর-তাল-ছন্দ
পুড়ছে হৃদয়
পুড়ছে বিবেকদংশন
রাত পেরিয়ে যায়
তবু থেকে যায় একটা আঁশটে গন্ধ।
পক্ষী জীবনাচার
তাহমিদুল্লাহ সারাসিনী
খুব সকালে পূব আকাশে
রবি ওঠে হেসে,
পাখিরা সব যায় বেরিয়ে
ফেরে বেলা শেষে।
নিয়ম মানে পালন করে
রবের সকল আদেশ,
তাইতো তারা থাকে সুখে
করে আরাম-আয়েশ।
খালি পেটে যায় বেরিয়ে
যে দিকে মনটা চায়,
ভরা পেটে ফিরে আসে
প্রতিদিনইতো খায়।
কিচির মিচির ডাকাডাকি
করে সারা বেলা,
সারা দিনে করে বেড়ায়
নানান রকম খেলা।
সন্ধ্যা নামে রবি ডুবে
আঁধার নেমে আসে,
ঘরে ফিরে যায় পাখিরা
গাছের পাতার পাশে।
আমাদের অসুখ
নুজহাত তাবাসসুম ইপ্সিতা
থার্মোমিটারের পারদ
হয়তো তাপমাত্রা নির্দেশ করে।
কিন্তু আমাদের
ভালোবাসার মানুষগুলো
আমাদের নীরবতা দেখেই বুঝে যায়
অসুস্থ হবার পূর্বাভাস।
প্যারাসিটামল হয়তোবা
জ্বরের ঔষধ হতে পারে।
কিন্তু প্রিয় মানুষের গলার আওয়াজ
শুনে যেই মানসিক শান্তি পাওয়া যায়
সেটা পৃথিবীর কোন ঔষধে নেই।
এখনো অনেক রাত
তোয়াবুর রহমান
তখনো অনেক রাত
বেড়িয়ে যায় অগোছালো স্বপ্ন গুলো
জোঁছনার হাত ধরে
ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শুনতে ঝিলের পাড়ে
পথের তরু গুলোকে রেখে যায় সাহ্মী
যদি না ফিরে আসি খড়কুটোর ভাঙ্গা ঘরে
রাতের ঝিমঝিমানি শব্দে শিউরে উঠে কচি লোম
কানে ভেসে আসে শন শন আওয়াজ
তবুও ভয় নেই আমি চলেছি একা
বাতাসের পিছে পিছে জোঁছনার হাত ধরে
এখনো অনেক রাত
চারিপাশে নিস্তব্ধতা নির্বাক জোঁছনা
দুরে কে যেনো দাড়িয়ে আছে হ্যারিকিন হাতে
দেখছি চেয়ে ম্যাক্সিমগোর্কি আমারি অপেক্ষায়।
তা’রিফে ইসলাম
মামুন মাহমুদ
ইসলাম হলো,
জাবালে নূরের এক দিগন্ত প্রসারি
আলোর ফোয়ারা।
হেরার দীপ্ত মশাল,
যার আলো-রশ্মিতে বিদূরিত হয়েছিল জাহেলিয়াতের জুলুমাত।
ইসালাম হলো,
কুহেলিকার ঘোর অমানিশায় মুদিত পৃথিবীর চোখে
প্রভাতি স্নিগ্ধ আলো।
খৈ-ফোটা তৃষিত মরুতে
এক মিষ্টি-বারির নির্ঝরনী।
ইসলাম,
যা মুক্ত করেছিলো,
জাহেলিয়াতের দন্ত-নখর কামড়ে ধরা
সত্যসুন্দর বিবেককে।
আর হাসি ফুটিয়েছিলো,
মনবতার মুখে আচল দিয়ে
ক্রন্দনরত অঝোর নয়নের।
ইসলাম হলো,
সাম্য সৌ-ভ্রাতৃত্বের প্রতীক।
যা পথ দেখায়, রবের দিকে
চিরশান্তির নীড় জান্নাতের দিকে।
যদি ভালবাসা দাও
রওশন মতিন
যদি ভালবাসা দাও অনন্তকাল
বুকের কপাট খুলে হৃদপিন্ড ছিঁড়ে
তোমার পাদপদ্মে অর্ঘ্য দেবো নৈবেদ্য,
পাহাড় চিরে সুগন্ধি নদী সাঁতরে দেবো-
তোমায় উপহার, সোনার মোহর ভরা মন।
কাজল নয়নে প্রেমের ভোমরা গুঞ্জন তোলে,
চাঁদের প্লাবনে প্রেম অমিয় সুধাময় নূপুর -নিক্কন,
যদি ভালবাসা দাও -বুকের বোতাম খুলে মুক্ত দ্বার
আমিও দাঁড়াব সঙ্গীন হাতে, কন্ঠে অমিও প্রেম সংগীত সুধা-
তাড়াব প্রেম বিনাশী অশুভ তিমির অন্ধকার।
প্রকৃতিতে মুগ্ধ হই
রাহিল
গ্রীষ্মের খাঁ খাঁ উষ্ণ তাপে
ঘেমে শরীর সিদ্ধ,
বর্ষায় কালো মেঘের বৃষ্টিতে
ভিজে শরীর সুদ্ধ।
শরতে রোদের কড়া শাসনে
ঝরে হঠাৎ বৃষ্টি,
হেমন্তের আকাশে রোদের উঁকি
বাতাসে জমে দৃষ্টি।
শীতের আমেজে জুবুথুবু হয়ে
সকালে আগুন পোহাই,
বসন্তে নতুন প্রকৃতি দেখে
আবার মুগ্ধ হই।


