back to top
Friday, March 13, 2026
Homeকবিতার এক পাতাকবিতার এক পাতা || ০৯/০৮/২০২৫

কবিতার এক পাতা || ০৯/০৮/২০২৫


কবিতার প্রতিধ্বনি – কবিতার এক পাতা
প্রতিধ্বনির সাপ্তাহিক আয়োজন

০৯/০৮/২০২৫ ||শুক্রবার
লেখা পাঠাতে নিচে ক্লিক করুন-

লিখুন প্রতিধ্বনিতেলিখুন প্রতিধ্বনিতে



লিখেছেন যারা-

  • ফারজানা ফাউজিয়া মুগ্ধতা
  • অশোক কুমার পাইক
  • রওশন মতিন
  • আবু হানিফ জাকারিয়া
  • স্বপন শর্মা
  • আইনুন নাঈমা
  • আবদুল্লাহ নুর আহম্মদ
  • নুজহাত তাবাসসুম ইপ্সিতা
  • শেখ মিন্নাতুল মকসুদ অর্চি
  • সুমিতা চৌধুরী

ই-পেপার পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন অথবা এই পাতা থেকেই পড়ুন



পরম করুণাময় মহান আল্লাহ
ফারজানা ফাউজিয়া মুগ্ধতা

তুমি সর্বশক্তিমান,
তুমি ক্ষমাশীল ভীষণ,
তুমি অসীম দয়ালু,
তুমি করেছো সৃষ্টি
মনোরম এই পৃথ্বী।
তোমার আদেশ শিরোধার্য।
তুমি দূর করে দাও দারিদ্র্যের অভাব,
তোমার উপর নির্ভরশীল
এই ধরিত্রীর প্রতিটি জীব।
তুমি একক ও অদ্বিতীয়,
তুমি ছাড়া নেই কোনো ইলাহা,
তুমি পরম করুণাময় মহান আল্লাহ তায়ালা।


যায় গো দিন চলে
অশোক কুমার পাইক

পুবের ভানু শেষ আলোকে রক্তশিখা ঢেলে
করুণ হেসে উঁকি দিয়ে গাছের আড়ে মেলে,
ওপার পারে ঘুমের চোখে সন্ধ্যা নামে ধীরে,
ক্লান্ত ডানায় উড়ে চলে পাখিরা ফেরে নীড়ে l

শেষ হলো যে বালকগণের মাঠের যত খেলা
পথের ধুলো উড়ায় তারা ঘরে ফেরার বেলা ;
ঐ যে ছোটে গরুর পাল গাঁয়ের মেঠো বাটে
ধোঁয়ায় ঢাকা খুরের ধুলো,শূন্য পুবের মাঠে l

গাছগাছালির ফাঁকটি বেয়ে শেষ রশ্মি নামে
অস্তাচলের বিষাদ ছায়া আঁধার ভরায় গ্রামে,
পথিক ফেরে বাজার থেকে সন্ধ্যা ছায়া বাটে
কথা বলার নাই যে সময় গাঁয়ের পানে হাঁটে l

ছলাৎ ছলাৎ দীঘির জলে নামে কালো ছায়া,
শেষ পলকে একটু চাওয়া মলিন রবির কায়া,
মাঠের কাজ সাঙ্গ করে ফেরে গাঁয়ের লোকে
ক্লান্তমাখা, অবস পায়ে, ঘুম জড়ানো চোখে !

নদীর বুকে আঁধার নামে মাঝিরা ঘাটে ফেরে
নৌকা বেঁধে, ঘরের পানে যায় যে কূল ছেড়ে,
ভাটিয়ালীর গান ভাসে না মাঝদরিয়ার মাঝে
গাঁয়ের বধূরা জ্বালায় দীপ, শঙ্খধ্বনি বাজে l


কবিকে ভয় দেখিওনা
রওশন মতিন

কবিকে কখনো ভয় দেখিওনা,
কশাইয়ের শান দেয়া ছুরিতে
একটি লাল গোলাপের হৃদপিন্ডকে
ফালি ফালি টুকরো টুকরো করে কেটে
ভেবো না সে, পাথরের অন্ধ কারিগর,
সমস্ত বসন্তকে আড়াল করা যায়,
কেননা একটি গোধূলি হারিয়ে গেলেও
কবির হৃদয়ে অনন্ত গোধূলি রাখে হাত,
কবিরা পাথরের বুক থেকে ও তুলে আনে
মুঠো মুঠো অজস্র রক্ত গোলাপ।

তাই কবিকে কখনো ভয় দেখিওনা,
কেননা , কবিতা হলো পৃথিবীর মাইল ফলক
এবং কবির হৃদয় মহাকাল।


ফিরে যাবার সনদ

আবু হানিফ জাকারিয়া

নিশ্বাস সমান দুরত্বে দু’জন মানুষ

নিস্তব্ধতা করে রেখেছে তাদের গ্রাস।

মৃদুসুর তুলে হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে,

নিঃশব্দে ছাড়া তাদেরই গভীর শ্বাস।

আগন্তুকের মত তৃতীয় কোন প্রাণী

টিকটিক শব্দে জানান দেয় অস্তিত্ব।

ক্ষণস্থায়ী জীবনের সেই শুধু সাক্ষী

আজকের নীরবতা কিংবা নিস্তব্ধতার।

আষ্টেপৃষ্ঠে তাদেরকে জড়িয়েছে

বোবাকান্না, আতংক, মৃত্যুভয়।

দু’জন দু’জনকে অনুভব করে,

হৃদয়ের গহীনেও তাদের বসবাস।

একটু আগেই যে জেনে গেছে তারা

ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ায় আর বেশিদিন নয়।

কম্পিউটারে ছাপানো সাদা কাগজ

যেন সৃষ্টিকর্তার কাছে ফিরে যাবার সনদ।


ডানায় আঁকা পাখি
স্বপন শর্মা

ফাউনটেন পেনের কালিতে আঁকা মুখ—
ভুরু, চোখ, নাক, ঠোঁট
মানুষের অবয়ব যেন ক্যানভাসে কথা বলে।

মুখ তৈরি হতেই সে শুরু করে অভিযোগ
চাহিদার অন্ত নেই, সমস্যারও না।
চাই আর চাই,
তার কণ্ঠে মিশে থাকে সীমান্তের কাঁটাতার,
পাসপোর্ট, ভিসা, মুদ্রার হিসেব।

মানুষ নয়, এখন আমি পাখি আঁকি।
এরা বলে না কিছু, চায় না কিছু, ‘স্বাধীন!’
আকাশ আর পৃথিবীর মাঝে
নিজের মতো ভেসে বেড়ায়।
আইনের জটিলতা এদের ছুঁতে পারে না।

শুধু ডানাগুলো শক্ত হলেই
পালায় পোষ মানা চেহারা, পরিযায়ী হয়,
শিকারির চোখকে ফাঁকি দিয়ে
উড়তে থাকে— সীমাহীন।

তবু আমি আঁকি— আর কতদিন পাখিদের।


নরকের নাগরিক
আইনুন নাঈমা

বেঁচে আছি কাফনের গন্ধ শুঁকে !

চিতার জ্বলন্ত অঙ্গারে চক্র নৃত্যে

হেঁটে যাই এপ্রান্ত হতে ও প্রান্তে।

কফিনের নিশ্ছিদ্র অন্ধকার ঘরে

জরায়ুবাসী অজাত জাতিকার মতো

কপালে ঠেকিয়ে পদযুগল

প্রতীক্ষায় আছি কাঙ্ক্ষিত প্রহরের।

ঈর্ষার উমে চারদিক কেবল ধ্বংসের উষ্ণতা !

মগজ খোলসে টগবগে জ্বলে

প্রতিশোধের উদ্বায়ী লাভা !

হিয়া কঙ্কনে রচিছে কদর্যের কাঁরুকাজ

চারদিক হীরকের নিখুঁত বলয়।

চোখ ধাঁধানো কী দ্যুতি !

যুগান্ধ বসে বসে গিলে

দানব ঢাকা মানবীয় রূপ।

স্বরূপের সন্ধানে কে যায় লংকায় ?

ত্রিশুলের ডগায় গেঁথে উন্মোচিত মুখোশ

সিংহদুয়ার পেরিয়ে

একদা যে এসেছিলো –

ভৎসনার দৃষ্টিবাণে পিষেছ তাকে।

আমার পরাজয় ,আমার ক্ষণজন্মা অদ্ব্যয়

কবিতার পঙক্তি ,তোমার সারস জিহ্বার

পৈশাচিক সুখ।

রক্তজমাট চোখে আজ কোনো অশ্রু নেই

কণ্ঠে কেবল আহাজারির আহ নাদ।

গলায় আটকে গেছে জগৎ বিধ্বংসী চিৎকার।

ভীষণ ইচ্ছে জাগে

সূর্যকে ডুবিয়ে দিই রক্তলাল গঙ্গায় !

খান খান হয়ে ভেঙে পড়ুক তাঁরকারাজি

নড়ে উঠুক অবিশ্বাসের ভিত !

বিশ্ব ডুবুক নশ্বর আঁধারে !

কৃষ্ণবামন গ্রাসে রচিত হোক

পৃথিবীর অন্ধকার কবর !

বলো আর কত দূর নরকের দুয়ার ?

আমি নরক নগরীর প্রাক্তন নাগরিক।


ধূসর গোধূলি..
আবদুল্লাহ নুর আহম্মদ

ধূসর গোধূলি আকাশের নিচে,
নিঃসঙ্গ নদীর একাকী তীরে—
চুপচাপ দাঁড়িয়ে ভাবি আমি,
কত সুন্দর এই নিসর্গ প্রহর।

মনের বিষণ্নতা মুছে যায় ধীরে,
প্রকৃতির কাছে সে হার মানে নীরবে।
প্রকৃতির উষ্ণ পরশে মুছে যায় বিমর্ষতা,
হাওয়ায় শীতল হয় মনের অগ্নিশিখা।

নদীর কলধ্বনি মেলে প্রশান্তি হাওয়া,
পাতা দোলে ধীরে, দেয় শান্তির ছায়া।
নীরবে সে কানে কানে শান্তির কথা কহে
অজানা স্মৃতিরা মন থেকে জাগে সহে।

নীলরঙে আঁকা মেঘের চাদরে,
সূর্যটা লুকায় এক মুহূর্ত স্বপনে।
চোখ বুজে শুনে, হৃদয়ের নীরব গান,
প্রকৃতির প্রেমে জড়িয়ে যায় প্রাণ।

চিরন্তন এ সন্ধ্যা, বলে যায় গল্প,
যেখানে থাকে না কোনো ব্যথা।
এই ধূসর গোধূলি শান্তির প্রতীক,
মনের গভীরে বুনে যায় নিঃশব্দ স্পর্শ।


বৃষ্টিস্নাত শহর
নুজহাত তাবাসসুম ইপ্সিতা

বৃষ্টিস্নাত শহরে
সবকিছুই ধুয়ে মুছে যায়।
শুধু মুছে না
আমাদের মনের দুঃখ জমা দেয়াল,
যা ছিল বুক পকেটে বন্দী,
যা ছিল নিঃশ্বাসের খামে মোড়া।
মনের ক্ষত শুকায় না
শুধু ভিজে থাকে অশ্রু দিয়ে,
ক্লান্ত শরীর হয় না তরতাজা
শুধু এই অবেলার অসুখে।


নিঃস্ব এক কবি
শেখ মিন্নাতুল মকসুদ অর্চি


এক টুকরো মেঘ
তুই আমায় ছুঁয়ে দেখ,
আমি বৃষ্টি হয়ে ঝরবো
তবু তোর হয়েই থাকবো।
রংধনুর দেশে,রঙিন হয়ে সেজে
আঁকবো তোরই ছবি,
তুই শুধু আমার হয়ে রবি।
বৃষ্টি ভেজা রাতে
ঘুম বিহীন আঁখিপাতে।
দেখবো শুধু তোকে
তুই চাঁদ আকাশের বুকে।
তোকে পাওয়ার ইচ্ছে
ভীষণ যন্ত্রণা দিচ্ছে।
তুই হারিয়ে গেলি কোথায়?
তোকে পাওয়ার চেষ্টায় বৃথায়!
আজ হারিয়ে সবই,
আমি নিঃস্ব এক কবি।


তোর বর্ষার উতলা ডাকে
সুমিতা চৌধুরী

মনের ঘরে বর্ষা নেমেছে আজ,
ময়ূর পালকে পেখম মেলে যেন…
তোর বাঁশির আবেশে মেতেছে মন,
এমন উতলা ডাক পাঠালি কেন?

বাঁধা কাজ যতো পড়ে আছে সবই,
সময় বয়ে যায় কখন বেহুঁশে…
আমি পড়ে রই তোর পথপানে চেয়ে,
তোর চোখের স্পর্শের আবেশে।

আমার মন জুড়ে তুই আঁকিস বৃষ্টি শুধুই,
যেন কোন গোপন আদরের দাগে।
এক শিথিল অবশতায় ঘেরে আমায়,
গোধূলির রক্তিমা ছুঁয়ে যায় লাজের পুরোভাগে।

এ কেমন শ্রাবণে ঘিরলি তুই আমায়?
এ কোন বর্ষা নামালি আজ মনের উঠোন জুড়ে?
এ বর্ষা শুধুই চাতক হয়ে চায় তোকে,
প্রেম পিয়াসী রাধার আবেশ বিভোরে।


লিখুন প্রতিধ্বনিতেলিখুন প্রতিধ্বনিতে

প্রতিধ্বনি
প্রতিধ্বনিhttps://protiddhonii.com
প্রতিধ্বনি একটি অনলাইন ম্যাগাজিন। শিল্প,সাহিত্য,রাজনীতি,অর্থনীতি,ইতিহাস ঐতিহ্য সহ নানা বিষয়ে বিভিন্ন প্রজন্ম কী ভাবছে তা এখানে প্রকাশ করা হয়। নবীন প্রবীণ লেখকদের কাছে প্রতিধ্বনি একটি দারুণ প্ল্যাটফর্ম রুপে আবির্ভূত হয়েছে। সব বয়সী লেখক ও পাঠকদের জন্য নানা ভাবে প্রতিধ্বনি প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে। অনেক প্রতিভাবান লেখক আড়ালেই থেকে যায় তাদের লেখা প্রকাশের প্ল্যাটফর্মের অভাবে। আমরা সেই সব প্রতিভাবান লেখকদের লেখা সবার সামনে তুলে ধরতে চাই। আমরা চাই ন্যায়সঙ্গত প্রতিটি বিষয় দ্বিধাহীনচিত্ত্বে তুলে ধরতে। আপনিও যদি একজন সাহসী কলম সৈনিক হয়ে থাকেন তবে আপনাকে স্বাগতম। প্রতিধ্বনিতে যুক্ত হয়ে আওয়াজ তুলুন।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments