কাশফিয়া নাহিয়ান
তোর উপর এত বিরক্ত লাগছে…কি বলবো?
ও…রিয়েলি ! আমি কি করলাম…
রাইট রাইট…অবিবেচকের মত বললি চল সবাই মিলে লং ড্রাইভে যাই…খুব মজা হবে…এটা মজা! এই সুনসান রাস্তায় গাড়ি খারাপ হয়ে গেলো।আমরা এখন কি করবো সানজানা…
এত কথা বলিস না…একটু ভাবতে দে রাইসা… আমি কিভাবে জানবো গাড়ি নষ্ট হয়ে যাবে…
আমার কিন্তু খুব ভয় পাচ্ছে…
তুই আর ভয় পাস না তো টাপুর… এমনিতেই কি একটা অবস্থা…
আমার কিন্তু বেশ লাগছে…রাত তিনটা…এই নিস্তব্ধতা এই নির্জনতা…কেমন যেন থ্রিল হচ্ছে…
আরেকজন আসছে থ্রিল থ্রিল খেলতে… তুই চুপ থাক তো ফাহিমা…অসহ্য লাগছে…
রাইসা চল গাড়ি থেকে বের হই…
তুই বুঝতে পারছিস না গাড়ি থেকে বের হওয়া বেশ বিপদজনক
আমি বের হচ্ছি… কেউ যদি আসতে চাস তো আয় আর না হলে বসে থাক গাড়িতে
সানজানা বের হবার সাথে সাথে রাইসা টপুর ফাহিমা সবাই তার পিছু পিছু বের হয়ে গেলো।
কি সুন্দর পরিবেশ… আহা! প্রতিটি শিরায় উপশিরায় মাদকতা ছড়াচ্ছে…
আমার অনেক ভয় করছে…এখন যদি কেউ আমাদের ধরে নিয়ে যায় কি হবে?
তোরা একটু থামবি…চল আশেপাশে খুঁজে দেখি কোনো গ্যারেজ পাই কিনা..
এ…ত রা..তে গ্যারেজ?
পেলেও তো পেতে পারি…অন্তত চেষ্টা তো করি…
চারজন বন্ধু অনেকটা পথ হাঁটলো… কিন্তু আশেপাশে কোন জনমানব নেই।
অনেক তো হাঁটলাম আর কত…
এই সানজানা দেখ… কোনো নীল আলোর মত কিছু একটা দেখা যাচ্ছে না…
হ্যা…মনে হয় কোনো ক্যাফে…উপরে কিছু একটা উড়ছে…মনে হচ্ছে কোনো নীল শাড়ির আঁচল…
হ্যা…তাই তো দেখতে পাচ্ছি…
চল তো গিয়ে দেখি… আসলেই তো! এটা তো একটা ক্যাফে…নাম “রোজ ক্যাফে”।কি বর্ণিল শোভা ছড়াচ্ছে… ভরা পূর্ণিমায় অপরূপ সৌন্দর্যে চোখ ধাঁধিয়ে উঠেছে। কিন্তু এত রাতে এরকম একটা ক্যাফে… বিষয়টা অদ্ভুত…
মনে হাজারো প্রশ্ন নিয়ে চার বন্ধু ক্যাফেতে পৌঁছল।ক্যাফের ভিতরটা আরও সুন্দর…মনে হচ্ছে এটা কোনো ক্যাফে না এক আলিশান বাড়ি… দামী স্যান্ডালায়ার দামী আসবাবপত্র… ঝকঝকে তকতকে টেবিল চেয়ার…মোট কথায় এক ভয়াবহ সৌন্দর্যের সাক্ষী এই রোজ ক্যাফে… আশেপাশে চার পাঁচ জন মানুষকেও দেখা যাচ্ছে…
এত সুন্দর ক্যাফে হয় আমি তো জানতামই না…
হ্যা…মনে হচ্ছে কোনো প্যালেসে পৌঁছে গেছি…
চল কিছু অর্ডার করি…তারপর গ্যারেজ বা মেকানিকের কথা জিজ্ঞাসা করা যাবে…
হ্যা…চল
এক্সকিউস মি…
ইয়েস…
এক শুকনো ফ্যাকাসে ওয়েটার তাদের কাছে গেলো…
ম্যাম…উয়িল ইউ অর্ডার সামথিং…
জ্বী…চারটা ব্ল্যাক কফি আর স্যান্ডউইচ…
এই তোরা আর কিছু খাবি…
না এতেই হবে…
ওকে…শিউর ম্যাম…
কিছুক্ষণ পরেই ওয়েটার তাদের অর্ডার নিয়ে আসলো।কফির কাপ হাতে নিতেই টাপুর চিৎকার করে উঠল…
একি? কফির কাপে এত রক্ত কেন…
কি বলছিস তুই…
আরে দেখ না ভালো করে…
সবাই দেখলো কফির কাপে কফিই আছে…
তুই দেখ ঠিকমত…
আরে একটু আগেই তো রক্ত ছিলো…
এটা তোর মনের ভুল…আর কিছুই না…
তারপর হঠাৎ রাইসা চিৎকার করতে আরম্ভ করলো…
আবার কি হলো…
সানজানা দেখ স্যান্ডউইচ এর জায়গায় একটা কাটা মাথা…
তোদের হলো টা কি?কি সব ভুলভাল দেখছিস…অবাক হয়ে বললো সানজানা।
আমার মনে হয় এই জায়গায় কোনো গণ্ডগোল আছে… কাঁদতে কাঁদতে বললো ফাহিমা…
দিস ইজ এ ট্রেপ…চল এখান থেকে প্লিজ…নইলে অনেক বড় বিপদে পড়বো…
ঠিক আছে চল…
সবাই চলে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়াতেই পথ আটকালো সেই ওয়েটারটা…
কোথায় যাচ্ছেন আপনারা…এনি প্রবলেম ম্যাম…
না…আসলে আমরা চলে যাচ্ছি…
রোজ ক্যাফেতে আসলেন…অর্ডার করলেন… এভাবে কি যাওয়া যায়…
মানে?
মানে টা খুব সহজ। ওয়েল কাম টু দ্যা ওয়ার্ল্ড অফ রোজ ক্যাফে…
চার বন্ধু দেখলো…সবাই কোথা থেকে যেন তাদের দিকে এগিয়ে আসছে…সবার মুখ বিকৃত… চোখে মণি নেই….ক্যাফের আলো একবার জ্বলছে আর একবার নিভছে…রাইসা সানজানা টাপুর ফাহিমা ভয়ে জমে গেলো… চিৎকারও করতে পারছে না…
বেশ কিছুদিন পর…
ক্যাফেটা বেশ সুন্দর তাই না তামিম…
হ্যা…কেমন একটা রয়েল ফিলিং দিচ্ছে…জাষ্ট ওয়াও…
স্যার…অর্ডার প্লিজ…
দুই কাপ চা…
ওকে ম্যাম…
ওয়াটস ইউর নেম… ইয়াং লেডি…
সানজানা…
তামিম কি দেখছো অমন করে…
একটা জিনিস খেয়াল করেছো নাদিয়া..
কি?
মেয়েটার মুখটা কি মায়াবী…অথচ চোখে এক অদ্ভুত বিষণ্ণতা…
কি যে বলো না তুমি?অবশ্য সুন্দরী মেয়ে দেখলে তোমার মনটা আবার উড়ু উড়ু করে তাই না?
দুইজনই হাসতে লাগলো। তামিম আর নাদিয়া জানে না তাদের আর কখনো নিজেদের জগতে ফেরা হবে না।কারণ একবার যে রোজ ক্যাফেতে আসে তার জন্য ফেরা অসম্ভব।মাঝে মাঝে চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্যের মাঝে লুকিয়ে থাকে ভয়ংকর কিছু… এখনো সেই নীলাভ আলো আর নীল শাড়ির আঁচলের মধ্য দিয়ে গভীর রাতে তার অস্তিত্ব জানান দেয় “রোজ ক্যাফে”…যাবেন নাকি কেউ সেই অশরীরীর রাজ্যে… সেই রোজ ক্যাফেতে…



